spot_img

কর্মসংস্থানে বড় লক্ষ্য, বাস্তবায়নে বিনিয়োগ ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তিখাতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান এবং ফ্রিল্যান্সিং ও সৃজনশীল খাতে আরও ৮ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তবে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এত বড় কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রবাহ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর সুশাসন। তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, বাজেটে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু মৌলিক বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘোষণা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কর্মসংস্থানের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি নতুন নয়; এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও স্থান পেয়েছিল। তার মতে, পরিকল্পনার সফলতা মূলত সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের ওপর নির্ভর করবে।

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, কর্মসংস্থানের ভিত্তি হলো বিনিয়োগ। কিন্তু বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য বা নির্দিষ্ট কোনো প্রণোদনা কিংবা কাঠামোগত সংস্কারের ঘোষণা নেই। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই সরকার কীভাবে এই বৃহৎ কর্মসংস্থান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

যদিও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কিছু সংশয় রয়েছে, অর্থমন্ত্রী বাজেটে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণ এবং সুশাসনভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ভারসাম্য আনয়নের কথা বলেছেন। গত ১১ জুন দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে বিশেষ সুবিধা

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল সেবা এবং অনলাইন কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ দিতে এ খাত থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ কর ও ভ্যাটমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতি ও সবুজ কর্মসংস্থান

সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে বিশেষায়িত ক্রিয়েটিভ জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শিল্প, সংগীত, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এসব জোন গড়ে তোলার মাধ্যমে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রীর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

জেলা-উপজেলায় কর্মসংস্থান কেন্দ্র

চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকলে সরকারি ব্যয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।

বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার বার্তা

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ব্যক্তি শ্রেণির জন্য আগামী পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট আয়কর কাঠামো এবং করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নীতিগত ধারাবাহিকতা ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাবে এবং বন্দর, টার্মিনাল ও অন্যান্য বৃহৎ অবকাঠামো খাতে আন্তর্জাতিক মানের গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও নগদ প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে।

매일 업데이트 받기

하루를 시작하세요 가장 중요한 북한 이야기 코리아뉴스가 선정한

가장 인기 많은

최근 이야기

저자 소개

뉴스 팁을 얻었습니까?
알려주세요![